জুলাই-সেপ্টেম্বর

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে ৩ শতাংশ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১ হাজার ৩১৩ টনে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদা চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১ হাজার ৩১৩ টনে দাঁড়িয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডব্লিউজিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ায় এ সময় বৈশ্বিক স্বর্ণের চাহিদা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। খবর রয়টার্স।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। গত ২০ অক্টোবর নিরাপদ ও আপৎকালীন বিনিয়োগের প্রবণতা বাড়ায় মূল্যবান ধাতুটির আউন্সপ্রতি দাম পৌঁছায় রেকর্ড ৪ হাজার ৩৮১ ডলারে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ (ফোমো) বা সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আগেভাগে বিনিয়োগের প্রবণতাও যোগ হয়েছে। এসবের সম্মিলিত প্রভাব স্বর্ণের দামের উল্লম্ফনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডব্লিউজিসির জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক লুইস স্ট্রিট বলেন, ‘স্বর্ণের বাজারের পূর্বাভাস এখনো ইতিবাচক। ডলারের দুর্বল বিনিময় হার ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমার প্রত্যাশা স্বর্ণে বিনিয়োগের চাহিদা আরো বাড়াতে পারে। আমাদের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মূল্যবান ধাতুটির বাজার এখনো পূর্ণতা পায়নি।’

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণের বার ও মুদ্রায় বিনিয়োগ বেড়েছে ১৭ শতাংশ, যার নেতৃত্বে ছিল ভারত ও চীন। একই সময় এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) বিনিয়োগ বেড়েছে ১৩৪ শতাংশ। গহনা তৈরিতে ব্যবহৃত স্বর্ণের চাহিদা ২৩ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ৪১৯ দশমিক ২ টনে। দাম বেশি থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কমেছে গহনা বিক্রি।

বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয় বেড়েছে ১০ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকগুলো স্বর্ণ কিনেছে ২১৯ দশমিক ৯ টন। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩৪ টনে। এটি গত তিন বছরের রেকর্ড উচ্চতার নিচে হলেও ২০২২ সালের আগের সময়ের তুলনায় এখনো অনেক বেশি।

অন্যদিকে স্বর্ণের সরবরাহের দিক থেকেও রেকর্ড হয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে পুনর্ব্যবহৃত স্বর্ণের পরিমাণ বেড়েছে ৬ শতাংশ। একই সময় ধাতুটির খনি থেকে উত্তোলন বেড়েছে ২ শতাংশ। ফলে বৈশ্বিক স্বর্ণের সরবরাহ পৌঁছেছে সর্বোচ্চ স্তরে।

উল্লেখ্য, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম গতকাল দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৯৬৪ ডলার ৯ সেন্টে। এছাড়া ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৯৭৭ ডলার ১০ সেন্টে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে গতকাল রুপার দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৪৭ ডলার ৬৫ সেন্টে। প্লাটিনামের দাম দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৫৯৫ ডলার ১৪ সেন্টে। প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৪১৮ ডলার ৬৫ সেন্টে।

আরও